নিঃসন্তান রোকসানা খানম সাত তলাবিশিষ্ট নিজ বাড়ির দোতলায় একাই বসবাস করতেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলোয় ভাড়াটেরা থাকেন। রোকসানা খানম কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের দিবা শাখায় ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্বামী খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এলজিইডিতে কমিউনিটি অর্গানাইজার পদে কর্মরত।

খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোকসানা খানম চৌগাছায় ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে তিনি তাঁকে কুষ্টিয়ায় আসার জন্য বাসে তুলে দেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসায় পৌঁছেছেন বলে তাঁকে ফোন করে জানান। সকালে যোগাযোগের চেষ্টা করে ফোন বন্ধ পান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধারালো অস্ত্র বা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাতে শিক্ষক রোকসানাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় আঘাত ছাড়াও দুর্বৃত্তরা থেঁতলে দেয় তাঁর মুখমণ্ডল। এ হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা বাসার আলমারির তালা ভেঙে কাপড়চোপড়সহ মালামাল তছনছ করে। এ ছাড়া আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। স্বর্ণালংকার কিংবা টাকাপয়সা খোয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। সুরক্ষিত ফ্ল্যাট বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাউজিং ডি ব্লক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ আজ সকালে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে শিক্ষকের সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী ছুটে আসেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি।

সঠিক কারণ জানা না গেলেও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী চক্র এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পুলিশ, পিবিআই ও গোয়েন্দা টিম সমন্বিতভাবে তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে।