সুনসান সাজেক, চতুর্থ দিনে গড়াল অবরোধ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। আজ রোববারও সকাল থেকে সাজেক সড়কে যান চলাচল করেনি। পর্যটক না থাকায় সুনসান সাজেকের জনপ্রিয় রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রে।
পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি এখনো থমথমে। অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন সড়কে পিকেটিং চলছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে এখন কোনো পর্যটক অবস্থান করছে না। তাই সব হোটেল-রিসোর্টের কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। রেস্তোরাঁগুলোতেও ক্রেতা নেই।
অবরোধ কর্মসূচি চলছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে। এটি এই দুই সংগঠনের ডাকা তৃতীয় দফার অবরোধ। তৃতীয় দফায় আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে অবরোধ কর্মসূচি।
অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজেকের ১০ নম্বর, ১৪ কিলো ও হাজাছড়া এলাকায় পিকেটিং চলছে। সাজেক সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধ চলাকালে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে। পুরো এলাকায় বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের কমিটি
সাজেকে টানা অবরোধের মধ্যে আলোচনার জন্য আজ রোববার সকালে জেলার হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
সভায় সাজেকের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন লংগদু কার্বারি হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণমিত্র চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।
কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করে শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, ‘প্রশাসন ও দুই এমপি মিলে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। প্রশাসনসহ সাজেকের হেডম্যান-কার্বারিদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে কবে সভা হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। সময় হলে আমাদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে মিটিংয়ে বলা হয়েছে।’
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সাজেকের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলোচনার আয়োজন করবেন। এ কাজে থানার ওসি ও প্রশাসন সহযোগিতা করবে। যাঁরা নিজেদের কার্বারি দাবি করছেন, তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘সাজেকে কিছু গোষ্ঠী সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। নানা পক্ষের মানুষ হতে পারে, নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপের হতে পারে। তবে এর জন্য আমি স্থানীয়দের দায়ী করছি না।’
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে ১১ অক্টোবর সাজেকে এক দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। অবশ্য শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে গত বুধবার দুটি সংগঠন এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়।
এরপর নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। তবে ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
সাজেকে অবরোধ চলাকালে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে গতকাল শনিবার অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।