ফাইনালের শেষ দিকে বুকে ব্যথা আর্জেন্টিনা সমর্থকের, হাসপাতালে মৃত ঘোষণা
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের শেষ দিকে হঠাৎ বুক ব্যথা অনুভব করেন আর্জেন্টিনার সমর্থক হাফিজুর রহমান। বাড়িতে যাওয়ার পর ব্যথার তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকায়।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান (৩৫)। সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকার আনছার আলীর ছেলে তিনি। কর্মরত ছিলেন বহুজাতিক একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে। স্ত্রী ও দুই শিশু ছেলে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। পরিবারের দাবি, আগে থেকেই হাফিজুরের হৃদ্রোগের সমস্যা ছিল।
প্রতিবেশী গিয়াস হোসেন জানান, হাফিজুর রহমান ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। দলের প্রতিটি ম্যাচ দেখার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের খোঁজখবরও রাখতেন। রোববার দিবাগত রাতে বাড়ির পাশের কদমতলা এলাকায় বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও স্পেন মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে এলাকাবাসীর সঙ্গে খাবারও খান। ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রত্যাশিত খেলতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। খেলা শেষে মন খারাপ করে বাড়ি ফেরেন।
হাফিজুর আগে থেকেই হৃদ্রোগের জন্য ওষুধ সেবন করতেন জানিয়ে তাঁর মামাতো ভাই তুহিন হোসেন বলেন, তাঁর ভাই আর্জেন্টিনার সমর্থক, তবে অন্ধ সমর্থক ছিলেন না। এলাকার ছেলেরা বড় পর্দায় খেলার দেখার ব্যবস্থা করে তাঁর ভাইকেও আমন্ত্রণ জানায়। খেলার আগে সেখানে ভাজাপোড়া খাবারের পাশাপাশি খিচুড়ি খান। খেলার শেষ দিকে তাঁর বুকে ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষণ পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক হাফিজুরকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ত্রিবেদী সরকার বলেন, হাফিজুর রহমান নামে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
হাফিজুরের এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।