সকালেই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জেলায় প্রাণ হারালেন ১৬ জন, আহত ৩৩
বগুড়া ও সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ায় বাসচাপায় সাতজন এবং সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল; জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী প্রথম আলোকে বলেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই শ্রমজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এ সময় কাজের সন্ধানে সেখানে অপেক্ষা করা শ্রমিকদের চাপা দেয় বাসটি। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া এতে আহত হন অন্তত ৯ জন। হতাহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা, সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২) এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহত পাঁচজনের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ফারুক মিয়া (৫২) নামের একজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে। ফারুক জানান, তাঁরা পাঁচ বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে যান। ফারুকসহ অপর তিনজন ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।
ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাসে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার ছিলেন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, দুর্ঘটনায় হতাহত ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের একজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে এবং অপরজনের অস্ত্রোপচার চলছে। কয়েকজনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।