মো. রবিন (৩৫) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের গাজিরটেক মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা। ১৫ নভেম্বর ছিল রবিনের চার বছর বয়সী ছেলে রেদোয়ানের জন্মদিন। ওই দিন রেদোয়ানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেন নেইমার। ওই ভিডিওতে নেইমারের পাশে রবিনকে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে রাতারাতি নেইমারের ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি পান রবিন। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার কাতার থেকে অসুস্থ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে আসেন রবিন। নেইমারের ‘বন্ধু’ রবিনকে পেয়ে গ্রামের বাড়িতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আ. ছাত্তার ও জাহানারা বেগম দম্পতির সাত সন্তান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রবিন সবার ছোট। লেখাপড়ার প্রয়োজনে ১৫ বছর আগে ব্রাজিলে পাড়ি দেন রবিন। পড়াশোনা শেষে কৃষি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এ সময় জোয়ান সেলসোর নামের ব্রাজিলের এক ব্যক্তির সঙ্গে রবিনের পরিচয় হয়। জোয়ান সেলসোর নেইমারের বন্ধু। মূলত, তাঁর মাধ্যমে নেইমারের সঙ্গে রবিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। বর্তমানে রবিন ও জোয়ান সেলসোর নেইমারের প্রচারণার কাজে যুক্ত আছেন।

আজ সকালে রবিনের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। রাতের ফ্লাইটে চলে যাবেন। রবিনের বড় ভাই মো. মামুন প্রথম আলোকে বলেন, নেইমারের সঙ্গে রবিনের বন্ধুত্বের বিষয়টি তাঁরা এত দিন সেভাবে জানতেন না। রবিনও বিষয়টি সেভাবে সামনে আনেনি। রেদোয়ানের জন্মদিনে ভিডিও দেওয়ার পর অনেকের মতো পরিবারের সদস্যরাও বন্ধুত্বের বিষয়টি জানতে পারেন।

কালিকাপ্রসাদ গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মিয়া নেইমারের অন্ধ ভক্ত। নেইমারের ‘বন্ধু’ রবিনের গ্রামে আসার খবরে সবুজের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যান। ছবিও তুলেছেন রবিনের সঙ্গে। প্রথম আলোর কাছে সবুজের প্রতিক্রিয়া, ‘রাত পোহালেই বিশ্বকাপ। টেলিভিশনের পর্দায় নেইমারকে দেখব। তাঁর আগে রবিনের সাক্ষাৎ পেয়ে মনে হচ্ছে নেইমারের কাছাকাছি আছি।’

ব্রাজিলপ্রবাসী রবিন সাংবাদিকদের বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নেইমার অনেক সহজ মানুষ। অহংকার নেই। বাংলাদেশের বিষয়েও তাঁর ধারণা আছে। এ দেশের অগণিত ভক্তের কথা তাঁর অজানা নয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি নেইমারকে বিষয়টি দেখিয়েছেন। এতে তিনি আপ্লুত।