কালীগঞ্জ শহর থেকে ঝিনাইদহ জেলা শহরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। এর বিকল্প হিসেবে রয়েছে কালীগঞ্জ-নারিকেলবাড়িয়া সড়ক। এই সড়ক দিয়ে নারিকেলবাড়িয়া হয়ে ঝিনাইদহ শহরে যাওয়া যায়। এ ছাড়া ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের হাটগোপালপুর বাজারেও ওঠা যায় এই সড়ক দিয়ে। এটি এলাকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যস্ততম সড়ক। কালীগঞ্জ শহর থেকে হাটগোপালপুরের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কোনো সমস্যা দেখা দিলেই বিকল্প হিসেবে এই সড়ক ব্যবহার করা হয়।

নারিকেলবাড়িয়া বাজারের জামিনুর রহমান বলেন, কালীগঞ্জ-হাটগোপালপুর ভায়া নারিকেলবাড়িয়া সড়কের দুই পাশে অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের বসবাস। আগে এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করত। সড়ক বেহাল হওয়ায় বর্তমানে বাস চলাচল বন্ধ। স্থানীয়ভাবে পরিচিত লাটা গাড়িতে (শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার যান) যাত্রী চলাচল করেন। এ ছাড়া মালপত্র আনা-নেওয়ায় বড় ট্রাক চলে। ছোট যানবাহনও চলাচল করে সড়কটিতে।

মিন্টু মিয়া নামের এক চালক বলেন, সড়কটির পাইকপাড়া থেকে কুশাবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত পিচ একেবারেই উঠে গেছে। দেখলে মনে হবে ইটের রাস্তা। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় তাঁরা গাড়ি চালাতে পারছেন না। বাস যেভাবে বন্ধ হয়েছে, তাঁদের গাড়িও একইভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চান্দো গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সড়কটির বানিয়াবহু বাজার থেকে নারিকেলবাড়িয়া পর্যন্ত চার-পাঁচ বছর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের মান এতটাই খারাপ ছিল। এক বছরের মধ্যেই ভাঙতে শুরু করে। এ ছাড়া কালীগঞ্জ থেকে বানিয়াবহু পর্যন্ত এক যুগেও সংস্কার করা হয়নি। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাঁরা সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

একই কথা বলেন ঘোড়াশাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য তাঁরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) জানিয়েছেন, সড়কটি সংস্কার হবে। তবে একটু সময় লাগবে।

ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, ঝিনাইদহ-হাটগোপালপুর ভায়া নারিকেলবাড়িয়া সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ হবে। আর কালীগঞ্জ-নারিকেলবাড়িয়া ভায়া নলডাঙ্গা সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।