চুয়াডাঙ্গায় অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গৃহবধূ ও যুবককে হেনস্তা
চুয়াডাঙ্গায় অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে প্রকাশ্যে মাথার চুল কেটে ও জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে দুজনকে আটকের পর গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে ঠান্ডা পানি ঢালা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় করেন। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে দুজনের মাথার চুল বিক্ষিপ্তভাবে কেটে গলায় জুতার মালায় পরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চড়-থাপ্পড়সহ শারীরিকভাবেও তাদের লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে দর্শনা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুজনের মাথার চুল এলোমেলো করে কাটা ও গলায় জুতার মালা। হেনস্তার শিকার দুজন মাথা নিচু করে আছেন। কয়েকজন তাঁদের মাথা তুলে ধরছেন, যাতে চেহারা দেখা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন এসব দৃশ্যের ভিডিও করছেন।
ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নির্যাতনের শিকার দুজনের বাড়ি একই এলাকায়। ওই যুবক অবিবাহিত হলেও গৃহবধূর দুই বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। বেশ কয়েক দিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চলে আসছিল। বিষয়টি হাতেনাতে ধরার জন্য গৃহবধূর স্বামী ফাঁদ পাতেন। গতকাল রাতে বাইরে যাওয়ার নাম করে বাড়ির পাশেই তিনি আত্মগোপন করে থাকেন। মধ্যরাতে ওই যুবক বাড়িতে ঢুকলে প্রতিবেশীদের দিয়ে তাঁদের আটক করেন। এরপর তাঁদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। আজ পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। কয়েক দিন আগে তাঁরা বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছেন। এখন তাঁরা সংসার করতে চান। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, হেনস্তার শিকার দুজনই হেনস্তাকারী কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন এবং মামলা করতেও আগ্রহী নন। তাঁদের অভিভাবকদের খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁদের পক্ষে কেউ মামলা করলে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।