মহেশখালীতে আতিকুরের কমিশন–বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের সাতজনের নাম এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। তাঁরা হলেন ধলঘাটার বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ, কুতুবউদ্দিন ও তাজ উদ্দিন, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের আশেক উল্লাহ, ঈদগাঁও এলাকার মোহাম্মদ মিজান, উখিয়ার মৌলভি আবুল বশর ও মোহাম্মদ জাহেদ। তাঁরা সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

কমিশন দিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়ার কথা স্বীকার করেন কয়েকজন জমির মালিক। তাঁদের দাবি, গত তিন-চার মাসে এই একটি প্রকল্প থেকে দালালের মাধ্যমে সার্ভেয়ার আতিকুর পাঁচ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহরের ভাড়া বাসায় ক্ষতিপূরণের ফাইল (কাগজপত্র) তৈরি ও ঘুষের টাকা লেনদেন করতেন দালালেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক বলেন, ধলঘাটার একজন দালালের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ কমিশনে জমির ফাইল এলএ অফিসে জমা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে চেক দেওয়ার কথা ছিল। এখন সার্ভেয়ার কারাগারে, দালালও লাপাত্তা। একই অভিযোগ ধলঘাটা ইউনিয়নের বনজামিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা আমির হোছাইন, কুতুবুদ্দিন, সরোয়ার কামাল ও শাহ আলমের। সমুদ্রবন্দরের জন্য আমির হোছাইনের ১ একর, কুতুবুদ্দিনের ১৮ শতক, শাহ আলম গংয়ের ১ একর জমি ও সরোয়ার কামালের ১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল চার মাস আগে। সার্ভেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগও করা হচ্ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত চেক হাতে পাননি কেউ। অথচ তাঁদের একই সঙ্গে অধিগ্রহণ করা জমির কিছু মালিক দালালের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের চেক অনেক আগেই তুলে এনেছেন।

তবে সার্ভেয়ার ও দালাল চক্রের কমিশন–বাণিজ্যের বিষয়ে কিছু জানেন না মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের চেক হয় জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা থেকে।

ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ নেই দাবি করে এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, কার্যালয়ের আশপাশে জমির প্রকৃত মালিক ছাড়া কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ। সর্বত্র সিসি ক্যামেরা লাগানো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন