সেলিমার স্বামী শহিদুল ইসলাম। তিনিও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কাজের জোগান দিয়ে চলেন। এখন এমনিতেই খেতে কাজের সংকট। তাই ছুটে চলেন নানা জায়গায়। তাঁর তিন ছেলেমেয়ে। সংসারের খরচের টানাপোড়নে বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এক ছেলে ও এক মেয়ে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

সেলিমা বেগম বলেন, মহাসড়কের পাশে উত্তম বাওয়াইপাড়া বাজারে এক বছর আগেও একটি বিরাট মুদিদোকান ছিল তাঁর। সেখানে বিক্রিও ভালো ছিল। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় এই দোকানসহ মালামাল বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রায় এক বছর চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কষ্ট আর অভাবের সংসারে আবারও হাল ধরেছেন তিনি।

চা পান করার সময় উত্তম এলাকার লোকমান মিয়া বলেন, ‘সেলিমার কষ্ট হলেও তাঁকে কারও কাছে হাত পাততে দেখিনি। নিজের চেষ্টায় আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

দোকানে কাজ করতে করতে সেলিমা বলেন, ‘হামরাগুলা গরিব মানুষ। কষ্ট করিয়া যা আয় করছি অসুস্থ হয়া চিকিৎসার পেছনে জমানো টাকাও শোগ শেষ হয়া গেইছে। এলা নতুন করিয়া ফির দোকান করছি। এই দোকান থাকি খরচ বাদ দিয়া ৩০০ টাকার মতো আয় হয়। সেটা দিয়া চলে সংসারের খরচ। তারওপর চাল-ডাল, তেলসহ জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে করি হামারগুলার দুবেলা খাওয়া কষ্ট হইছে। শখ করি যে ভালো কিছু খামো তারও উপায় নাই।’

সেলিমা বেগম আরও বলেন, ‘টাকার অভাবে দোকানে নলকূপ বসাতে পারিনি। বাড়ি থেকে পানি এনে দোকানে রাখতে হয়। এতে খুব কষ্ট হয়। কেউ যদি একটি টিউবওয়েল দিত, তাইলে অনেক উপকার হইতো।’