জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সিলেটে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার সকালে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষেছবি: প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

আজ শনিবার সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা)’-এর নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ সকালে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক হয়।

হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই থাকা উচিত।’

জ্বালানিসংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত আছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, বাংলাদেশ সেখানে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও বোয়িং কেনা হবে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হবে।

কলকাতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের হোটেল না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।