সিদ্ধিরগঞ্জে আরও একটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভী গ্রেপ্তার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় করা আরও একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে তাঁকে মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুনের আদালত শুনানি শেষে এ-সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেন। ১২ মামলার মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ১০টিতে তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত আছে।
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দী আছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্তে আইভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, রাব্বি মিয়া (২২) হত্যা মামলার এজাহারে আইভীর নাম না থাকলেও তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
রাব্বি মিয়া (২২) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পানচাষী এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাশের খুশবো ভবনে ভাড়া থাকতেন।
তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক গাজী মাহতাব উদ্দিন বলেন, এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে হত্যাকাণ্ডে আইভীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জে খুশবো ভবনের চতুর্থ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রাব্বি মিয়া। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অন্তর মিয়া ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ একাধিক মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রথম পাঁচটি মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দিলেও তা স্থগিত রয়েছে। পরবর্তী পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও সেগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত আছে। বর্তমানে এসব মামলার শুনানি আপিল বিভাগে অপেক্ষমাণ।