থাই রাজকুমারীর হাতে উদ্বোধন, পাহাড়ধস ঠেকাতে ‘জাদুর ঘাস’ প্রকল্পের এখন কী অবস্থা

থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিধরন চট্টগ্রামে বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র (ভেটিভার সেন্টার) উদ্বোধন করছেনফাইল ছবি

বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির সময় চট্টগ্রামে তৈরি হয় দুই আতঙ্ক। পাহাড়ধস আর জলাবদ্ধতা। প্রতি বছরই নগরে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো প্রাণহানিও হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধস ঠেকাতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়গুলোতে বিন্না নামের এক জাতের ঘাস রোপণের উদ্যোগ নেয় সিটি করপেরেশন। বিদেশে ‘ভেটিভার’ নামে পরিচিত এই ঘাস পাহাড়ের ক্ষয়রোধে খুব ভালো কাজ করে বলে গবেষকেরা একে ‘জাদুর ঘাস’ বলে অভিহিত করেছেন। আট বছর আগে ২০১৮ সালে ‘জাদুর ঘাস’ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিনধরন। নিজ হাতে তিনি বিন্না ঘাসের চারা রোপণ করেছিলেন। পাশাপাশি উদ্বোধন করা হয়েছিল বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র বা ভেটিভার সেন্টার। পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি করা হয়েছিল প্রদর্শনী প্লট ও প্রশিক্ষণ শেড।

পরিকল্পনা ছিল—পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে চট্টগ্রাম নগরের ক্ষয়প্রবণ পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বিন্না ঘাস; কিন্তু একটি পাহাড়ের পরীক্ষামূলক প্লটের বাইরে আর এগোয়নি সেই উদ্যোগ। টাকার অভাব এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে তিন বছরের মাথায় ২০২১ সালে থেমে যায় প্রকল্পের কার্যক্রম। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প ব্যয় হয়েছিল ২৮ লাখ টাকা। যার মধ্যে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিল থাই সরকার এবং বাকি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হয়।

তবে পাঁচ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিন্না ঘাস নিয়ে আবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে সিটি করপোরেশনের। নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে এ ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এমন অবস্থানের পর পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রামের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে আবার পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস রোপণের পরিকল্পনা করছে সিটি করপোরেশন।

থাই রাজকুমারীর হাতে উদ্বোধন

২০১৮ সালের ৩০ মে সকালে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় বাটালি হিলের মিঠা পাহাড়ের পাদদেশে ছিল বিশেষ আয়োজন। সেখানে থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিনধরন উদ্বোধন করেছিলেন বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র বা ভেটিভার সেন্টার।

বিন্না ঘাস উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্র উদ্বোধনের পাশাপাশি পাহাড়ে ভূমিক্ষয় রোধে বিন্না ঘাসের চারাও রোপণ করেন রাজকুমারী সিরিনধরন। সেদিন তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের হাতেও বিন্না ঘাস তুলে দেন। পরে পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি করা প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন।

আট বছর আগে ২০১৮ সালে ‘জাদুর ঘাস’ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিনধরন। নিজ হাতে তিনি বিন্না ঘাসের চারা রোপণ করেছিলেন। পাশাপাশি উদ্বোধন করা হয়েছিল বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র বা ভেটিভার সেন্টার। পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি করা হয়েছিল প্রদর্শনী প্লট ও প্রশিক্ষণ শেড।

থাইল্যান্ডের সাইপাট্টানা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত প্যানপিমন সোয়ানাপুগন্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিন্না ঘাস নিয়ে যে পরিকল্পনা ছিল

চট্টগ্রামের পাহাড়ে ভূমিক্ষয় কমানো এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল বিন্না ঘাস রোপণের উদ্যোগ। প্রথম ধাপে বাটালি হিলের মিঠা পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি করা হয় প্রদর্শনী প্লট। সেখানে স্থাপন করা হয় ভেটিভার সেন্টার, প্রশিক্ষণ শেড এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

চট্টগ্রাম নগরের টাইগার পাস এলাকায় বিন্না ঘাসের প্রদর্শনী প্লট
ফাইল ছবি

পরিকল্পনা ছিল, পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাসের কার্যকারিতা যাচাইয়ের পর নগরের অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পাহাড়ের ঢালে পর্যায়ক্রমে এই ঘাস রোপণ করা হবে। অর্থাৎ মিঠা পাহাড়ের প্রকল্পটি ছিল বড় পরিসরে উদ্যোগ সম্প্রসারণের প্রাথমিক পরীক্ষাগার। তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদের উদ্যোগে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম নিয়েছিল সিটি করপোরেশন।

উদ্বোধনের সময় তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রকল্পের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে বিন্না ঘাসের চারা উৎপাদন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং নগরের বিভিন্ন পাহাড়ে এর ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

কেন থেমে গেল প্রকল্প

প্রকল্পের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে সেই অর্থ আর ছাড় হয়নি বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের বাইরে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। একই সঙ্গে প্রকল্পটির তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণও ধীরে ধীরে কমে যায়। বিন্না ঘাসের পরিচর্যা, চারা উৎপাদন ও প্রশিক্ষণের জন্য যে ভেটিভার সেন্টার এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোও পরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পরিবর্তন আসে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনে। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময়ে। ২০২১ সালে মেয়রের দায়িত্ব নেন মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। একই সময়ে প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদেও পরিবর্তন আসে।

পরিবর্তিত প্রশাসনের কর্তারা বিন্না ঘাস উন্নয়ন প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি বলে জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী। অর্থায়নের অভাব এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।  ফলে থাইল্যান্ডের রাজকুমারীর হাতে উদ্বোধন হওয়া এবং নগরের বিভিন্ন পাহাড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক প্লটেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে বাটালি হিলের মিঠা পাহাড়। এই পাহাড়ের ঢালে লাগানো হয়েছিল বিন্না ঘাস। ভেটিভার সেন্টারে স্থাপন করা হয়েছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার নানা সরঞ্জাম। পাশেই ছিল বিন্না ঘাসের প্লট ও প্রশিক্ষণ শেড।

ভেটিভার হলো একধরনের ঘাস, যা বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নামে পরিচিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ ও শক্তিশালী শিকড়। এই ঘাসের শিকড় কয়েক মাসের মধ্যেই মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির ৬ থেকে ১০ ফুট গভীরে চলে যেতে পারে। শিকড়গুলো চারপাশে ছড়িয়ে মাটিকে ধরে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এ ঘাসের। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, বাঁধ এবং অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ এলাকায় মাটির ক্ষয় কমাতে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্রের কার্যালয়টি এখনো রয়েছে। তবে সেখানে বিন্না ঘাস প্রকল্পের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। কেন্দ্রটিতে এখন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে যে প্রদর্শনী প্লটে বিন্না ঘাস রোপণ করা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশে গুদাম নির্মাণ করা হয়। আরেকটি প্রদর্শনী প্লটে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে ফাঁকে ফাঁকে এখনো কিছু বিন্না ঘাস দেখা যায়। পাহাড়ের পাদদেশে ইট-সিমেন্টের প্রাচীরও নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক প্রকৌশলী প্রথম আলোকে বলেন, পাদদেশ ছাড়াও পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে বিন্না ঘাস রোপণ করা হয়েছিল। পরীক্ষার জন্য কিছু অংশে ঘাস রোপণ করা হয়নি। তাঁর দাবি, যেসব অংশে বিন্না ঘাস রোপণ করা হয়েছিল, সেখানে তুলনামূলকভাবে পাহাড়ধসের পরিমাণ কম ছিল। অন্য পাহাড়গুলোতে এই ঘাস রোপণ করা গেলে একদিকে পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমত, অন্যদিকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিও কমে আসত। কারণ, পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও বালু নালা-নর্দমা ও খালে জমে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

ওই প্রকৌশলী জানান, নগরের বিভিন্ন পাহাড়ে বিন্না ঘাস লাগানোর জন্য তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

টাইগারপাস এলাকায় বিন্না ঘাস প্রকল্পের সদর দপ্তর
ফাইল ছবি

কী এই বিন্না ঘাস

ভেটিভার হলো একধরনের ঘাস, যা বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নামে পরিচিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ ও শক্তিশালী শিকড়। এই ঘাসের শিকড় কয়েক মাসের মধ্যেই মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির ৬ থেকে ১০ ফুট গভীরে চলে যেতে পারে। শিকড়গুলো চারপাশে ছড়িয়ে মাটিকে ধরে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এ ঘাসের। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, বাঁধ এবং অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ এলাকায় মাটির ক্ষয় কমাতে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে এ ঘাস জন্মাতে দেখা যায়।

সরকারের আগ্রহ

বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিএনপি সরকার। নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও মাটির ক্ষয় ঠেকাতে পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী সমাধান হিসেবে এই ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ‘বিন্না ঘাস পলিসি ফর বাংলাদেশ’–বিষয়ক এক সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নদীর পাড়, বাঁধের ঢাল, হাওরাঞ্চল ও অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিন্না ঘাস রোপণের ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় বিন্না ঘাসের উপকারিতা ও সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন বুয়েটের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

সরকারের এই নতুন আগ্রহের পর চট্টগ্রামের পাহাড়েও আবার বিন্না ঘাস ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশন এখন পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি পাহাড়ে নতুন করে পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস লাগানোর পরিকল্পনা করছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পটি যখন নেওয়া হয়েছিল এবং পরে বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই কেন এটি বন্ধ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন, ২০২১ সালে অর্থায়নের অভাব এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আগ্রহ না থাকায় প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এখন সরকার বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়াতে চায়। সে কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পাহাড়গুলোতে এ ঘাস রোপণের পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে নগরের ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় বাছাই করে সেসব পাহাড় ও এর পাদদেশে পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস রোপণ করা হবে। ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পাহাড়েও এই ঘাস ব্যবহার করা হবে।