ব্যানার টাঙাতে গিয়ে হামলায় শাপলা কলির কর্মী আহত, বিক্ষোভ

শাপলা কলির কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া। আজ রাতে নোয়াখালীর সেনবাগ থানার মোড়েছবি: প্রথম আলো

নোয়াখালী–২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার শাপলা কলি প্রতীকের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলার উত্তর শাহাপুর এলাকায় শাপলা কলির নির্বাচনী ব্যানার টাঙাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির প্রার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতীকের কর্মীদের হামলায় তাঁর কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৮) আহত হয়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে সেনবাগ বাজারে শাপলা কলির কর্মী–সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্তর শাহাপুর এলাকায় ব্যানার টাঙাতে যান। এ সময় স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দলের কর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে শাপলা কলির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনবাগ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। সেনবাগ পৌর শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেনবাগ থানার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মালেক এবং পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়াজী বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের চাচাতো ভাই ও জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লা আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার টাঙানো নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সঙ্গে বিএনপির দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাপলা কলির এক কর্মী ব্যানার টাঙাতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাপলা কলির নেতা–কর্মীরা মিছিল–সমাবেশ করেছেন। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণবিধিসংক্রান্ত, তাই অভিযোগটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি—এ তথ্য আমরা জেনেছি।’