ঢাকা-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কম
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে যানবাহনের চাপ কমে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম যানবাহন চলাচল করছে। ফলে নির্বিঘ্নে ঈদে ঘরমুখী মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন। অতিরিক্ত চাপের কারণে সকালে ও বিকেলে দুই দফা যমুনা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন যমুনা সেতু পারাপার হয়েছে। যা স্বাভাবিক সময়ের থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা।
মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার ৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে গতকাল থেকে যানবাহনের চাপ ছিল অত্যধিক। তবে থেমে থাকতে হয়নি। অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করেছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ যানজট এড়াতে আজ বেলা ১১টা ৪০ থেকে ১টা ৫৬ পর্যন্ত যমুনা সেতুর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে যানবাহনের চাপ সেতুর পূর্ব প্রান্তে (টাঙ্গাইলের দিকে) কমে আসে। বিকেলে আবার সেতুর পূর্ব প্রান্তে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তখন বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট থেকে আবার উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়।
বিকেল সাড়ে ৫টায় মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম যানবাহন চলাচল করছে। পাবনাগামী মাইক্রোবাসের চালক মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে এলেঙ্গা পর্যন্ত পৌঁছেছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম সময় লেগেছে ৫৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. শরীফ বলেন, বিকেলে যানবাহনের চাপ কমে আসে। রাস্তায় নির্বিঘ্নে যানবাহন চলছে।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা) ঢাকাগামী ১৮ হাজার ৭৪৪টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫০ টাকা। এদিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৮৪০টি যানবাহন পার হয়েছে। এতে টোল আদায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুই প্রান্তেই ২টি করে বুথে মোটরসাইকেলের টোল আদায় করা হচ্ছে।