প্রথমবার প্রকাশ্যে খোলা হলো লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স, সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলে গণনা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহর আখড়াবাড়িতে থাকা দানবাক্স বছরে চারবার খোলা হলেও এত দিন তা জানত না গণমাধ্যম ও স্থানীয় লোকজন। তবে এবার প্রথমবারের মতো দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সের তালা খুলে টাকা বের করা হয়। পরে লালন একাডেমির একটি কক্ষে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে গণনা।
গণনা শেষে দানবাক্সে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। এই টাকা আগামীকাল লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হবে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ফকির লালন শাহর দুটি উৎসব ঘিরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর ১৩৬তম তিরোধান দিবসের আগে আজ দানবাক্স খুলে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গেছে।
নাভিদ সারওয়ার আরও জানান, গত বছর ১৩৫তম তিরোধান দিবসের আগে দানবাক্স খুলে ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং তিরোধান দিবসের তিন দিন পর দানবাক্স খুলে ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তিরোধান দিবসের পর আবারও প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা হবে।
ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস ও দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকে। এসব অনু্ষ্ঠান উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো বাউল, সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আখড়াবাড়িতে ছুটে আসেন। এ ছাড়া সারা বছরই ভক্ত–অনুরাগীরা আখড়াবাড়ি দর্শন করেন এবং আখড়াবাড়ির ভেতরে রাখা দানবাক্সে অর্থ দান করে থাকেন।
প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা ও গণনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। লালন একাডেমির কর্মচারী টগর আলী বলেন, ‘উৎসবের আগে ও পরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়ে থাকে। আমি গণনার কাজে সহযোগিতা করি। এবারই প্রথম সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে গণনার করা হচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এইবার প্রথম ফকির লালন আখড়াবাড়িতে রাখা দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও টাকা গণনা করা হয়েছে। আমরা চাই এই টাকা সঠিকভাবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করা হোক।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন বলেন, এবারই প্রথম লালন একাডেমির সিন্দুক প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয়েছে। এই টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা হবে।