ডিগ্রি-সনদ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা, ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা ও কারাদণ্ড
বগুড়ার শেরপুরে স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি ও সনদ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে সুনীল কুমার বিশ্বাস (৫০) নামের একজনকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে শেরপুর পৌরসভার হাটখোলা সড়কের স্যানালপাড়া এলাকায় সুনীল কুমার বিশ্বাসের ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান (হিমু) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ এবং বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসা করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামসহ শেরপুর থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুনীল কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি বা সনদ ছাড়াই রোগী দেখতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ এবং বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তাঁর চেম্বার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ২৪ আগস্ট ওসমান আলী নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর প্রস্রাবে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া নিয়ে চিকিৎসার জন্য শিশুটির বাবা তাঁর ছেলেকে নিয়ে আসেন সুনীল বিশ্বাসের কাছে। শিশুটির পরিবারের দাবি, চিকিৎসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুটির তীব্র ব্যথা শুরু হয়, বন্ধ হয়ে যায় প্রস্রাব। পেট ফুলে গেলে পরে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত সুনীল কুমার বিশ্বাসকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তিনি জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করেন।
ডিগ্রি ও সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।মো. সাইদুজ্জামান হিমু, ইউএনও
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, সাজাপ্রাপ্ত সুনীল কুমার বিশ্বাসকে গতকাল রাত ১০টার দিকে বগুড়ার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ডিগ্রি ও সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।