যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪০) হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনায় কেউ আটক হননি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তাঁর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রানার কোনো শত্রু ছিল না। তাঁকে হত্যার কোনো কারণ আমি পাচ্ছি না। কোনো স্বার্থগত কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। তবে আমি জানি না, কী কারণে এবং কেন তাঁকে এমন পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হলো। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি পাশের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামে। কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফ তৈরির কারখানা আছে। কেশবপুরের কাটাখালী বাজারে তাঁর একটি মাছের আড়ত আছে। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।
রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী (৬৪) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। চার বছর আগে তিনি অবসরে যান। রানা প্রতাপ বৈরাগীরা দুই ভাইবোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। রানা প্রতাপের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ও পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী কপালিয়া বাজারে তাঁর বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে আসা তিনজন তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা আছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মনিরামপুর সার্কেল) ইমদাদুল হক বলেন, ‘রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি, আজকের মধ্যে এ হত্যার কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।’