সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কথা হয় দীন মোহাম্মদের সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে সেদ্ধ ডিম বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল ৪টার পর দোকান শুরু করে চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে বিকেলে দোকান নিয়ে বসলেও মূলত বিক্রি শুরু হয় সন্ধ্যার পর। শুরুর দিকে তিনি শুধু দেশি মুরগি আর হাঁসের ডিম বিক্রি করতেন। এখন যুক্ত হয়েছে ফার্মের মুরগির ডিম।

আশি থেকে নব্বইয়ের দশকে যখন ডিমের দাম কম ছিল, তখন প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি ডিম বিক্রি হতো দীন মোহাম্মদের। তিনি বললেন, তাতে দৈনিক আয় হতো ৫০ টাকার মতো। সেই টাকা দিয়ে সংসার খরচ করেও প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ টাকা বেঁচে যেত তাঁর। এখন তিনি দিনে ১০০ থেকে ১২০টি ডিম বিক্রি করতে পারেন। তাতে গ্যাস, মরিচ, পেঁয়াজ আর তেলের খরচ বাদ দিয়ে দিনে ৩০০ টাকা থাকে। পরিবারে দৈনিক আড়াই কেজি চাল আর অন্যান্য জিনিস কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। দিন দিন জিনিসের দাম বাড়ায় এখন এই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীন মোহাম্মদ বলেন, বড় ছেলেকে একটি পলিটেকনিক কলেজে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করেছিলেন তিনি। কিন্তু টাকার অভাবে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বেকার হয়ে বাড়িতেই বসে আছেন। এসএসসি পাসের পর বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে মাদ্রাসায় পড়া বাদ দিয়ে এখন একটি দোকানে দরজির কাজ শিখছে। আর সবার ছোট মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ছে।

দিন দিন সেদ্ধ ডিমের ক্রেতা কমে যাচ্ছে বলে দীন মোহাম্মদের ভাষ্য। তিনি বলেন, ‘আগে মানুষ বাজার করার পর ডিমের দোকানের সামনে এসে একটা ডিম খেয়ে যেত। এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় বাজার করতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডিম কিনে খাওয়ার ইচ্ছা জাগে না। আর যেখান থেকে পাইকারি দরে কাঁচা ডিম কিনি, সেখানে ডিমের দাম ওঠানামা করায় ব্যবসায় শান্তি নেই। এখন বয়স হয়েছে, অন্য কাজও তো আমাকে দিয়ে হবে না। ডিম বিক্রি করেই যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে।’