প্রথম আলো: নোয়াখালীতে গত এক মাসে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে তিন স্কুলছাত্রী বখাটের হামলার শিকার হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

আবদুল আউয়াল: আগে ছিল পথে-ঘাটে ইভটিজিং। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সহিংসতা। পর পর যে তিনটি ঘটনা ঘটল, তিনটি ঘটনা অনেকটা একই রকম। এটা ভালোভাবে তলিয়ে দেখা দরকার। এই অপরাধের তলা খুঁজতে হবে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলবাজির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, দেখতে হবে। কারণ, এ ধরনের কিশোর-তরুণ ঘটনা ঘটানোর পর কলার ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

প্রথম আলো: মেয়েদের সুরক্ষায় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা নিতে পারে?

আবদুল আউয়াল: পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে বাসে বাচ্চাদের বাড়ি থেকে স্কুলে নিয়ে যায়। আমাদের এখানে যদি এমন ব্যবস্থা চালু করা যেত, তাহলে বখাটেরা হয়রানি করতে পারত না। তা ছাড়া পাড়ার ছেলেরা যাতে কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে না পারে, সে জন্য পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কাজটি করতে হবে শিক্ষকদের। স্কুলে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে হবে।

প্রথম আলো: একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে, কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শনাক্ত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আপনার কিছু বলার আছে?

আবদুল আউয়াল: বড় ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ভালো। কিন্তু কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা তেমন দেখা যায় না। কারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, পুলিশের কাজ তাদের চিহ্নিত করা। স্কুলগুলোর সামনে পুলিশের কোনো দল থাকে না। এসব এলাকায় পুলিশের টহল বাড়াতে হবে। পুলিশ যদি বলে অপরাধের পর মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসবে, তা হলে পুলিশের ভূমিকা কী?

প্রথম আলো: নোয়াখালীতে কেন এত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে আপনি মনে করেন? অবস্থার উত্তরণে কী করা যেতে পারে?

আবদুল আউয়াল: অন্য জেলার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, নোয়াখালী বরাবরই নারীর বিষয়ে রক্ষণশীল। আমরা দেখি রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। নোয়াখালীতে এমনটা দেখা যায় না। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নোয়াখালীতে রক্ষণশীল ভাবনাগুলো মানুষের মনে খুব গভীরভাবে গেঁথে আছে। এখানে নারীর বিরুদ্ধে একটা প্রচারণা কাজ করে। সেটা হলো নারীরা ঘরে থাকবে, তাদের ঘরে থাকা উচিত। নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। আমাদের নারীবিষয়ক যে কার্যালয় আছে, সেটিকে আরও জোরদার করতে হবে। শুধু দিবসকেন্দ্রিক ভালো ভালো কথা বললে হবে না, বছরব্যাপী তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই নারী নির্যাতন কমে আসতে পারে।