কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে এবার ভেসে এল মৃত ডলফিন

সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবারছবি: প্রথম আলো

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটি ভেসে আসে।

এর আগে গতকাল বুধবার কুয়াকাটার নিকটবর্তী কাউয়ারচর এলাকার ঝাউবন পয়েন্টে জোয়ারের পানির সঙ্গে ৪০ কেজি ওজনের একটি অলিভ রেডলি কচ্ছপ ভেসে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। কুয়াকাটার স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘আমি প্রথমে ডলফিনটি দেখতে পাই। এরপর বন বিভাগসহ সবাইকে খবর দিই।’

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। এ প্রজাতির ডলফিনের মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট থাকে না। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল এবং বড় নদীগুলোয় এদের বিচরণ। বিপন্ন এই প্রজাতি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ (তুষার) বলেন, একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক হতে পারে না। এসব উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির বার্তা হতে পারে। সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, ‘বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকির ইঙ্গিত। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।’

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।