কক্সবাজারের রামুতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ৩১ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
কক্সবাজারের রামুতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
পুলিশ জানায়, ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ নূরুল আবছার বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দামের নির্দেশে এবং রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক ও এরশাদুল কাউসার সাকিবের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জোয়ারিয়ানালার পূর্ব মুরাপাড়ার জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কে মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত ব্যানার, বিভিন্ন ফেস্টুন ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
পুলিশের দাবি, খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তাঁরা ব্যানার, লাঠিসোঁটা ও ইটের টুকরা ফেলে রেখে যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শেখ হাসিনার ছবি ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার, ১৩টি কাঠের লাঠি এবং ১৯টি ইটের টুকরা জব্দ করে। স্থানীয় তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে জব্দ তালিকাও প্রস্তুত করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের দেওয়া তথ্য, গোপন সংবাদ এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অজ্ঞাত আসামিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।