কীর্তনখোলায় নৌবিহারে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঘুরে দেখলেন ঐতিহাসিক নানা স্থাপনা
দুই দিনের সফরে ‘বাংলার ভেনিস’খ্যাত বরিশালে গিয়ে নদী-খাল, ভাসমান বাজারসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রোববার সকালে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারাবাজার দেখার পর বরিশালের ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন ও নৌবিহারে কীর্তনখোলা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন তিনি।
ঢাকা থেকে লঞ্চে করে বরিশালে আসার পর আজ সকালে প্রথমে ঝালকাঠির ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারাবাজার ও পেয়ারাবাগান ঘুরে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডিয়ান ডাও। পরে দুপুরে বরিশালে ফিরে সদর উপজেলার কড়াপুরের ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন তিনি। ১৮ শতকে নির্মিত মসজিদটির স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখে তিনি মুগ্ধ হন।
দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আমন্ত্রণে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কীর্তনখোলা নদীতে নৌবিহারে অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁরা এমভি এম খান নামের একটি বিলাসবহুল লঞ্চে কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং নৌযানেই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এ সময় বরিশালে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌবিহারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বরিশাল সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলার ভেনিসে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ ও অভিভূত। চারদিকে নদী-খাল, নৌকার চলাচল আর পানির সঙ্গে মানুষের এমন নিবিড় জীবনযাপন বরিশালকে অন্য রকম সৌন্দর্য দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সকালে ভাসমান বাজারে গিয়ে নৌকায় ঘুরেছি। নদীর ওপর এমন প্রাণবন্ত বাজারের অভিজ্ঞতা আমার জন্য সত্যিই অসাধারণ। বরিশালের এই সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।’
এ সময় বরিশাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর স্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁদের হাতে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নৌবিহারে রাষ্ট্রদূতকে বরিশাল বন্দরের ইতিহাসও জানানো হয়। তাঁকে বলা হয়, মোগল আমলে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান বরিশাল বন্দরের নাম ছিল ‘গিরি-ই-বন্দর’। তখন এ নদীবন্দর দিয়ে লবণ, মসলা ও কাঠের ব্যবসা হতো। পরে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালে এটি বরিশাল বন্দরে রূপান্তরিত হয়। বন্দরের ইতিহাস শুনে রাষ্ট্রদূত আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বন্দরে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।
নৌবিহারে অংশ নেওয়া তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধু এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সেই দেশের রাষ্ট্রদূত বরিশাল সফরে এসেছেন। আশা করছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে তিনি বরিশাল তথা বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবেন।
তথ্যমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বরিশালের গৌরনদীতে ক্যাথলিক চার্চে যাওয়ার কথা আছে। সেখানে তিনি আন্তধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে দুপুরে তথ্যমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পর তিনি বরিশাল ত্যাগ করবেন।