হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন ইতি বেগম নামের এক প্রসূতি। কর্তব্যরত নার্সরা ওই নবজাতককে মায়ের কাছে দেন। নবজাতকটি দেখভাল করছিলেন তার খালা রোজিনা আকতার।

রোজিনা আকতার বলেন, ‘আজ দুপুরে চার দিনের নবজাতককে নিয়ে তিনি গাইনি বিভাগে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক নারী এসে নবজাতকের জন্য সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। এরপর কাগজপত্র ও নবজাতককে নিয়ে তাঁর সঙ্গে নিচতলায় যেতে হবে বলে জানান। নিচতলায় যাওয়ার পর কাগজপত্র ফটোকপি করে আনতে আমাকে যেতে হবে বলে জানান। একপর্যায়ে নবজাতককে তিনি জোর করে কোলে নিয়ে আমাকে ফটোকপি করতে পাঠান। অল্প সময় পর ফিরে এসে দেখি, নবজাতকটি চুরি করে তিনি সটকে পড়েছেন।’

হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চোর শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক জাকারিয়া রানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গাইনি বিভাগ থেকে ওই বাচ্চা চুরি হয়নি। প্রসূতি ইতি বেগমের বোন রোজিনা আকতারকে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তার প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে নবজাতকসহ হাসপাতালের নিচতলায় ডেকে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চোর শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চোর শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।