মাগুরায় ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪, কার্যালয়ে ভাঙচুর
ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চালের কার্ড ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাতের এ সংঘর্ষে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলামসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পৌরসভার বাটিকাডাঙ্গা মোড়ে অবস্থিত ওয়ার্ড বিএনপির একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০০ জনের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়ার কথা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার বাটিকাডাঙ্গা মোড়ে অবস্থিত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা হয়।
ওই সভায় উপস্থিত নেতাদের একজন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ভিজিএফের চালের কার্ড যাতে যথাযথভাবে দরিদ্র মানুষেরা পায়, সে জন্য ছাত্রদল, যুবদলসহ সব ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির অফিসে আলোচনা চলছিল। এ সময় আবুল হোসেন নামের এক বিএনপি কর্মী এসে কেন তাঁকে মিটিংয়ে ডাকা হয়নি, বিষয়টি তুলে ধরে কার্ডের অংশ দাবি করে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সন্ধ্যার পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কার্ড বণ্টন ও মিটিংয়ে আমন্ত্রণ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাগ্বিতণ্ডা একপর্যায়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলামের সঙ্গে হাতাহাতিতে গড়ায়। ইফতারের পর বাটিকাডাঙ্গা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষ আবার মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে আবুল হোসেনের সমর্থকেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শেখ তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া হামলায় আসলাম, বাকের, দেলোয়ার, ইয়াছিন, রহিলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।
সন্ধ্যার পর সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে র্যাব সদস্যরাও সেখানে যান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’