গ্রীষ্মের দাবদাহ বা কার্তিকের গরম-তৃষ্ণায় চা–বাগান বাজারের মাঠার জুড়ি নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, লেবু চিপে তাঁদের বানানো এক গ্লাস মাঠা কেউ একবার খেলে আর ভুলবেন না। বার বার খেতে ইচ্ছা করবে।

কালিয়াকৈর উপজেলার চা–বাগান এলাকায় তুরাগ নদের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাঠার বাজারটি। ১৯৯৯ সালে ‘মুন্না মাঠাঘর’ প্রথম এখানে মাঠা বিক্রি শুরু করে। বর্তমানে ‘চা বাগান মাঠাঘর’, ‘তোয়া’, ‘জান্নাত’, ‘তামজিদ’, ‘মাসুদ’, ‘লোকমান’, ‘শাহীন’, ‘আনোয়ার’সহ মোট ২৫টি মাঠাঘর আছে এই চা–বাগান বাজারে। খাঁটি দুধ, দই, ঠান্ডা পানি আর লবণের মিশ্রণে তৈরি হয় এখানকার মাঠা।

ভোক্তা চাইলে, আইসক্রিম, কেক, চকোলেট, লেবুসহ বিভিন্ন ফ্লেভার যোগ করা হয়। জান্নাত মাঠাঘরের মালিক বলেন, ‘দইয়ের যে উপাদান আছে, সেগুলো দিয়েই আমরা মাঠা তৈরি করে থাকি। এ ছাড়া সবকিছু দিয়ে মাঠা বানানো যায়। কেউ কলা, আইসক্রিম, কাঁচামরিচ, জুস দিয়ে খেয়ে থাকেন। সারা বছর এখানে মাঠা বিক্রি হয়, তবে গরমকালে বেশি বিক্রি হয়। আমার দোকানে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার মাঠা বিক্রি করে থাকি।’

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দই অথবা ঘোলের সঙ্গে পরিমাণমতো চিনি আর মসলা মেশালেই মাঠা তৈরি হয়। আবার সাদা ঘোলকে কোথাও কোথাও মাঠা বলা হয়। উপমহাদেশে আবহমান খাদ্যসংস্কৃতিতে মাঠার চিরন্তন এক আবেদন আছে। গ্রীষ্মপ্রধান এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এই পানীয় হজমে সহায়ক ও প্রশান্তিদায়ক।

মাঠা ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, ভেজালমুক্ত এবং সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখানে মাঠা খাওয়ার জন্য আসেন। অনেকে মাঠা খেয়ে আবার বোতলে ভরে বাড়ি নিয়ে যান। এই বাজারে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মাঠা বিক্রি হয়।

মাঠা খেতে আসা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার আবদুল হামিদ বলেন, ‘আশপাশের কোথাও এখানকার স্বাদ ও মানের মাঠা পাওয়া যায় না। আমার বন্ধুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এই এলাকায় বেড়াতে এসেছি শুধু মাঠা খাওয়ার জন্য। এখনাকার মাঠা খেতে খুবই সুস্বাদু।’

তোয়া মাঠাঘরের মালিক তায়েব উল্লাহ বলেন, ‘আমি ২১ বছর ধরে মাঠা বিক্রি করি। প্রতিদিন আমি পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার মাঠা বিক্রি করে থাকি।’ 

চা–বাগান বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জানান, দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা এখানে মাঠা খেতে আসেন, বাজার কমিটি তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া মাঠা ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে একবার বসে ‘ব্রিফিং’ দেওয়া হয়, যাতে কোনো রকম ভেজাল কিছু মাঠার সঙ্গে মিশাতে না পারেন।