ফরিদপুরে গভীর রাতে আসামির বাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তা, আটক করে পিটুনি
ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে আসামির বাড়ি থেকে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) আটকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে সালথা থানার পুলিশ এসে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এএসআই ইমরানের আটকের ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। তিনি প্যান্ট ও টি–শার্ট পরা। তার মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং মুখে রক্ত লেগে ছিল। গভীর রাতে নারীর ঘরে ঢুকে পরকীয়ার অভিযোগ তোলার পর একজন ব্যক্তি তাঁকে আঘাত করছিলেন। তখন এএসআই ইমরান বলছিলেন, ‘তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?’
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসানের (২৮) বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। এই মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঘন ঘন যাতায়াত করতেন। যার কারণে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে মেহেদী হাসানের ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে গেলে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন। পরে সালথা থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে ইমরান হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসান বলেন, তিনি মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে রাত তিনটার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এই সুযোগে এএসআই ইমরান মাঝেমাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী তাঁকে হাতেনাতে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।’
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গভীর রাতে একা কেন আসামি ধরতে গেলেন—প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, কেন ওই এএসআই রাতের আঁধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।