সুন্দরবনে পর্যটক-রিসোর্টমালিক অপহরণের ঘটনায় দস্যুবাহিনীর প্রধানসহ তিনজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
সুন্দরবনে দুই পর্যটক, রিসোর্টমালিকসহ তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় দস্যুবাহিনীর প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অপহৃত পর্যটকদের পাঁচটি মুঠোফোন, একটি হাতঘড়ি এবং দস্যুদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের মোংলার কোস্টগার্ড পশ্চিমাঞ্চল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাসুম বাহিনীর প্রধান খুলনার তেরোখাদা উপজেলার বিপ্র অজগরা গ্রামের মাসুম মৃধা (২৩), তাঁর সহযোগী একই গ্রামের ইফাজ ফকির (২৫) এবং মাসুমের বাবা মোছা মৃধা (৫৫)। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি দেশি ওয়ানশুটার পাইপগান, আটটি তাজা কার্তুজ, চারটি ফাঁকা কার্তুজ, একটি চায়নিজ কুড়াল, দুটি দেশি কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড পশ্চিমাঞ্চলের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই চক্রের ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে ৬ জানুয়ারি মোছা মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের সবাইকে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়। দস্যুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গতকাল বুধবার কোস্টগার্ড খুলনার তেরোখাদা থানার ধানখালীসংলগ্ন এলাকা থেকে দস্যুবাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা ও তাঁর সহযোগী ইফাজ ফকির গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুসারে সুন্দরবন-সংলগ্ন দাকোপের গাজী ফিশারিজের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আহরণের ঘটনায় ৪ জানুয়ারি দাকোপ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরও দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে আরও একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কেনুয়ার খালসংলগ্ন এলাকায় নৌকায় ভ্রমণকালে মাসুম বাহিনী দুজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। তাঁদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্টমালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।