আজ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে গাইবান্ধা রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বিএনপির ২০-২২ জন নেতা-কর্মী ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে বেঞ্চে বসে আছেন। কেউ কেউ ট্রেনের খবর নিচ্ছেন। যাত্রার আগে গাইবান্ধা জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি কাজী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের ইন্ধনে বিএনপির গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমাদের গণসমাবেশ ষড়যন্ত্রে থামানো যাবে না। পরিবহন বন্ধ তাতে কী, আমরা গণসমাবেশ সফল করতে ট্রেনযোগে রংপুরে যাচ্ছি। রাতে সমাবেশস্থলেই কষ্ট করে থাকব। যাঁরা সমাবেশস্থলে থাকবেন, তাঁদের জন্য শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে পানি, বিস্কুট ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

যেহেতু রংপুরে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে, তাই সব নেতা-কর্মীকে সঙ্গে শুকনা খাবার নিতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আইয়ুব আলী (৪৫) বলেন, ‘শুনেছি, রাতে রংপুরে থাকার জন্য হোটেল ফাঁকা পাওয়া যাবে না। ওখানকার নেতাদের বাড়িতেও লোকজনে ভর্তি। অনেকটা শীত পড়েছে। তাই কাঁথা-বালিশ সঙ্গে নিয়েই রংপুরে যাচ্ছি। মাঠের যেখানে ফাঁকা পাব, সেখানেই ঘুমাব।’

বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। যাঁদের ইচ্ছা আছে সমাবেশে যাওয়ার, তাঁরা যেভাবেই হোক সমাবেশস্থলে পৌঁছাবেন। যেহেতু রংপুরে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে, তাই সব নেতা-কর্মীকে সঙ্গে শুকনা খাবার নিতে বলা হয়েছে। রাতে অটোরিকশা ও সিএনজিতে ঝুঁকি বেশি। তাই ট্রেনে যাত্রা। অনেকে কাল ভোরেও রওনা দেবেন। তাঁরা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রংপুরে যাবেন। তবে এখন পর্যন্ত যাত্রাপথে কেউ বাধা পাননি বলে তাঁরা জানান।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। রংপুর অভিমুখে কোনো বাস ছাড়েনি।  দিনভর গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তবে সন্ধ্যার পর থেকে বগুড়া দিকে বাস যেতে দেখা গেছে। ঢাকাগামী কোচগুলো চলছে। বিভিন্ন উপজেলা শহর থেকে নৈশকোচগুলো জেলা শহর অতিক্রম করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মোটরশ্রমিক বলেন, রংপুরে সমাবেশ। সেখানে না গেলেই হলো। তাই বগুড়া ও ঢাকার দিকে বাস যাচ্ছে।

ধর্মঘটই যদি হবে, তবে বগুড়া ও ঢাকায় বাস যাচ্ছে কেন, জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে নছিমন, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সমিতির রংপুর বিভাগীয় কমিটি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই আমরা ধর্মঘট করছি।’

শুরু থেকেই এই ধর্মঘটকে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ বানচালের অপচেষ্টা হিসেবে মনে করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ জন্য অন্য রুটে বাস চললেও কেবল রংপুরেই বাস চলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।