পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে রাজৈর উপজেলা সদরের একটি কর্মশালা শেষে ভ্যানে কর্মস্থলে ফিরছিলেন সিমান্তী। বেলা তিনটার দিকে সিমান্তী টেকেরহাট-কদমবাড়ি সড়কের সেনদিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহিন্দ্রা ওই ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে সিমান্তী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

দুই শিশুর চাচা পলাশ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে দীপায়ন-দীসানিও হাসপাতালে আসে। মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বারবার লাশের কাছে যেতে চাচ্ছিল। পরে স্বজনেরা কান্না চাপা রেখে দীপায়ন-দীসানিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিমান্তীর লাশ বাড়ি নিয়ে অন্ত্যষ্টিক্রিয়া করা হয়। তখনো অবুঝ দুই শিশু কান্না করছিল।

default-image

সিমান্তীর স্বামী হিরন্ময় মণ্ডল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে চাকরি করেন। তাঁর কর্মস্থল গোপালগঞ্জ সদরে। ফলে দীপায়ন-দীসানি মায়ের কাছেই থাকত। গতকাল দুই সন্তানকে এক স্বজনের কাছে রেখে কর্মস্থলে যান সিমান্তী।

স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন হিরন্ময়। কান্নারত অবস্থায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সন্তানদের কে মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা দেবে? আমি কীভাবে ওদের সামলে রাখব? ওরা মাকে খুঁজলে আমি কী জবাব দেব?’

পলাশ মণ্ডল বলেন, ‘সিমান্তীর এভাবে চলে যাওয়া আমাদের পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা। আমরা কোনোভাবেই অবুঝ দুই শিশুকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। ওরা যখন মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে, তখন কেউই চোখের জল আটকে রাখতে পারি না। এখন তো সবাই আছে। কয়েক দিন পর যখন সবাই চলে যাবে তখন শিশু দুটিকে মায়ের স্নেহ-আদর দিয়ে কীভাব আগলে রাখব?’

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে মাহিন্দ্রার চাপায় এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। দুর্ঘটনার পরই মাহিন্দ্রা নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন