পিস্তল ঠেকিয়ে নারী শিক্ষককে অপহরণের চেষ্টা, আসামি ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার দাবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি দেলোয়ারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণের অভিযোগে দেলোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে কসবা থানায় একটি মামলা করেন ওই নারী শিক্ষক। দেলোয়ার হোসেন ওরফে জিন্নাহ (৩০) উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। ওই নারী শিক্ষক (২৬) উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
আজ দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে জড়ো হন। তাঁরা নারী শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মোল্লা, স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আজাদ মিয়া, ছাত্রদল নেতা খন্দকার সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ঘটনার দিনই সন্ধ্যায় কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী শিক্ষক। ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রদল নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আহবান জানান তাঁরা। একাধিকবার অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত দেলোয়ারকে ছাত্রদলের পদ এবং দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার না করা হলে কসবা থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হলে তিনি হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে দেলোয়ার তাঁর পথ রোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় উঠতে বলেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে দেলোয়ার কোমর থেকে কালো রঙের একটি পিস্তল বের করে তাঁর পেটে ঠেকান। একপর্যায়ে দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ওই নারীর মুখ চেপে ধরে অটোরিকশায় তোলেন। একপর্যায়ে উপজেলার কুল্লাবাড়ি জোড়া সেতুর ওপর পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে অটোরিকশা থেকে লাফ দেন তিনি। পরে তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ‘ওই শিক্ষিকাই কথা বলার জন্য ঘটনার দিন আমাকে বিদ্যালয়ের সামনে যেতে বলেন। বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষিকার সঙ্গে আমার কথা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। রাগ কমাতে শিক্ষিকাকে অটোরিকশা নিয়ে একটু ঘুরেছি।’
এ বিষয়ে আজ জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদুল হককে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে নারী শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দুজনের মধ্যে মান–অভিমান থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমরা সমাধান করে ফেলব।’
এক প্রশ্নের জবাবে সমীর চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই নারী শিক্ষকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি; আমাদের কাছে কোনো অভিযোগও করেননি।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারী শিক্ষক বাদী হয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।