ভাই-বোনের জমি দখল করার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে
নাটোরে বাটোয়ারা দলিলে জাল সই করে ভাই-বোনের জমি দখল করার অভিযোগে জেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে গোলাম সারোয়ার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোলাম সারোয়ার তাঁর ছোট ভাই মুফতি মাওলানা মো. শফী কাসেমীর সই জাল করে ২০২১ সালের ১২ জুলাই পৈতৃক সম্পত্তির বাটোয়ারা দলিল করেন। পরে সদর উপজেলার একডালা এলাকার ১০৪ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করে গোলাম সারোয়ার ভোগদখল করতে শুরু করেন।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর শফী কাসেমী বাদী হয়ে নাটোর সদর আমলী আদালতে মামলা করেন। পরে গোলাম সারোয়ার এই মামলায় সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোলাম সারোয়ার বাদীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা করেননি।
পরে মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদের বিচার আদালতে আসে। আজ বুধবার মামলার নির্ধারিত দিনে গোলাম সারোয়ার আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। আদালত স্থায়ী জামিনের আবেদন নাকচ করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গোলাম সারোয়ারের আরেক ভাই এমদাদুল হক বলেন, তাঁরা ১২ ভাইবোন। এর মধ্যে ৯ ভাইবোনের সম্পত্তি গোলাম সারোয়ার জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করে নিয়েছেন। এ কারণে শফী কাসেমী বাদী হয়ে মামলা করেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, গোলাম সারোয়ার আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এখন তিনি বিএনপির কেউ নন। তিনি সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে মামলার বিষয়বস্তু তাঁদের পারিবারিক জমি–জায়গা নিয়ে। এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু বলার নেই।