ইজারার ১২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি দুই কর্মচারী, ব্যবস্থা নিতে চিঠি

রায়পুর ভূমি অফিসছবি: প্রথম আলো

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা বাবদ আদায় করা ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই কর্মচারীর কাছ থেকে এসব অর্থ আদায় করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার গোলাম মুস্তাফা মুন্না স্বাক্ষরিত চিঠিটি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষায় ইজারা বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম ও মো. নকিব হোসেন শান্ত। জাহাঙ্গীর আলম রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলার রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। মো. নকিব হোসেন শান্ত সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) হিসেবে রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত।

চিঠিতে বলা হয়, রায়পুর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। ওই নিরীক্ষায় দেখা যায়, সরকারি লিজের দুটি খাতে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করা হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়, রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। ওই নিরীক্ষায় দেখা যায়, সরকারি লিজের দুটি খাতে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করা হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি টাকা আত্মসাতের দায়ে জাহাঙ্গীর আলম ও নকিব হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবিলম্বে এসব অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি। মো. নকিব হোসেন শান্ত দাবি করেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ভুলবশত তা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এ কারণে অডিট আপত্তি উঠেছে।’

চিঠির বিষয়ে জানতে চেয়ে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানকে ফোন করা হয়। তিনি বার্তা পাঠাতে বলেন। পরে তাঁকে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন করা হলে তিনি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।