পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ১৪৮ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডিজিটাল সনদ ও পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সনদ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হাওলাদারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তিনি বাড়ির ফেরার জন্য রওনা দেন। সড়কের বদরপুর বাসস্ট্যান্ডে সড়ক পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে আলতাফ সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আলতাফের মৃত্যুর খবরে পটুয়াখালীতে তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অতুল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আলতাফের মৃত্যুর ঘটনাটি বেদনাদায়ক। গতকাল অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে। একসঙ্গে সার্টিফিকেট ও স্মার্টকার্ড নিলাম। সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে খুব কষ্ট পেয়েছি। এমন দুর্ঘটনারোধে সড়কে শৃঙ্খলা আনা দরকার।’

আলতাফ হাওলাদারের ছেলে মো. কাওসার বলেন, সুরতহাল শেষে তাঁর বাবার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই মোটরসাইকেলচালক ওহিদুল আলমকে (২২) স্থানীয় লোকজন আটক করেছিলেন। তবে আহত হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন