বাসে পরিচয় থেকে বিয়ে, এরপর হত্যা, ১৩ বছর পর স্বামীকে গ্রেপ্তার: র‍্যাব

হাতকড়াপ্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের মধুখালীতে স্ত্রী মীরা আক্তার (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মোস্তফা কামালকে (৪২) প্রায় ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা সদরের আনসার রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মীরা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁর স্বামী মোস্তফা কামাল পালিয়ে যান। মোস্তফা ফরিদপুর সদর উপজেলার উজান মল্লিকপুর গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মীরা আক্তার হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মোস্তফা কামাল ও তাঁর সহযোগী মজিদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা না দিলে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে মীরা বাসে করে ফরিদপুর শহর থেকে মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ওই বাসে তাঁর পাশের সিটে বসা যাত্রী মোস্তফা কামালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। গোপনে বিয়ে করেন তাঁরা। বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া নিয়ে মীরার সঙ্গে মোস্তফার বিরোধ হতো। একপর্যায়ে মীরা সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীকে না জানিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মীরা রওনা হলে মোস্তফা তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। পরে মজিদ মোল্লার সহায়তায় মীরাকে হত্যা করা হয়।

মধুখালী থানার পুলিশ ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে মীরার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল হক ২০১৮ সালের ৩১ মে মোস্তফা কামাল ও মজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‍্যাব-১০ ও র‍্যাব-১–এর যৌথ দল গতকাল মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাইজুর রহমান বলেন, আজ সকালে র‍্যাব আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।