বাউফলে কম্বল পেল শিশু শিক্ষার্থী ও গুচ্ছ গ্রামের মানুষ

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম বাউফল নুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েছবি: প্রথম আলো

ভিটেমাটি কিছুই নেই। তিন সদস্যের পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী। উপার্জনক্ষম কেউ নেই। ঠাঁই হয়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাগুজিরপুল এলাকার দক্ষিণ পাশে সরকারিভাবে নির্মিত গুচ্ছগ্রামে। অন্যের সাহায্যে তাঁদের সংসার চলে। তিনজনকেই কম্বল দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন আইরিন বেগম (৩২), খাদিজা বেগম (২৫) ও মরিয়ম বেগম (৬০)। সম্পর্কে মা ও মেয়ে। কম্বল পেয়ে তাঁরা খুব খুশি।

আইরিন বেগম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন; স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। খাদিজা ও মরিয়ম বেগম হাটাচলা করতে পারেন না।

কম্বল হাতে পেয়ে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে আইরিন বলেন, ‘এই বছর শীত অনেক পড়ছে, অনেক কষ্ট পাইছি। অনেকের কাছে ছুটেও একটা কম্বল পাইনি। এই কম্বল পেয়ে অনেক ভালো লাগছে, অনেক খুশি হয়েছি। বাকি শীতে কষ্ট কম হবে।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বাউফল উপজেলার তিন এলাকার ২০০ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলার কাগুজিরপুল এলাকার ও গুচ্ছগ্রাম এলাকার মোট ৬০ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে ও পশ্চিম বাউফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০ শিক্ষার্থীকে এবং গতকাল রোববার কনকদিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার ৬০ শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বলগুলো তুলে দেওয়া হয়।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাগুজিরপুল এলাকার ১৬টি পরিবার ও গুচ্ছগ্রামের ৪৪ পরিবারের শীতার্ত মানুষ গুচ্ছগ্রামের পূর্ব পাশে খোলা মাঠে জড়ো হন। লাঠিতে ভর করেও আসেন কয়েকজন বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী। পরে প্রত্যেক পরিবারের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়ে। দুপুর ১২টার দিকে পশ্চিম বাউফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থীকে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়।

গুচ্ছগ্রামের ময়না বেগম (৬০) বলেন, ‘আমাগোর কিছুই নাই। সরকারি জায়গায় সরকার ঘর বানাইয়া দিছে। হেইহানে (সেখানে) আছি। রইবার রাইতে আমাগো গুচ্ছগ্রামে কে বোলে যাইয়া কইল প্রথম আলো থেইকা কম্বল দিব, স্লিপ দিয়া আইছে। তাই আজ স্লিপ নিইয়া কম্বল নিতে আইছি। কম্বলডা পাইয়া আমার অনেক উপকার হইল।’

পশ্চিম বাউফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন সুলতানা শামীমা বলেন, ‘এখানে অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং শীতে রাতের বেলায় অনেকে কষ্ট করে। কিন্তু কেউ কখনো শীতবস্ত্র দেয়নি। আমরা প্রত্যাশা করিনি, প্রথম আলো পত্রিকা আমার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে।’

এর আগে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কনকদিয়া পালপাড়া গ্রামের মন্দিরের সামনে জড়ো হন ৬০ শীতার্ত মানুষ। যাঁদের অধিকাংশ নারী। ক্যাথেটার লাগানো অবস্থায় কম্বল নিতে এসেছিলেন উপজেলার কনকদিয়া পালপাড়া গ্রামের হরেশ্বর দাস (৮০)। এ ছাড়া কম্বল নিতে এসেছিলেন মনা লক্ষ্মী (৯৫), পুষ্পবালা পাল (১০১) ও খুকু রানী পালসহ (৯০) অনেকে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা অনেক গরিব ও অসহায়। দারিদ্র্যসীমার নিচে তাঁদের জীবনযাপন। হাড়কাঁপানো শীতে তাঁদের মতো বৃদ্ধ মানুষদের খুব কষ্ট হয়।

কম্বল পেয়ে পুষ্পবালা পাল প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে বলেন,‘দাদু ভাই, তুমি কম্বল দিয়ে অনেক উপকার করলে। ভগবান তোমার ভালো করবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ পবিত্র চন্দ্র পাল ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অজিত কুমার পাল।

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।