দুই বন্ধুকে নিয়ে চাচাতো ভাই খুন করেন শাহরিয়ারকে, আদালতে স্বীকারোক্তি

অপরাধ
প্রতীকী ছবি

একটি কাজের জন্য চাচাতো ভাই কাওছারকে ৪০০ টাকা দিয়েছিলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কলেজছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম ওরফে আশিক (১৯)। কাজটা না করায় ওই টাকা ফেরত চান তিনি। কাওছার টালবাহানা করতে থাকলে এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁকে চাপ দিতে থাকেন শাহরিয়ার। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওছার দুই বন্ধুকে নিয়ে তাঁকে কুপিয়ে এবং গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে শাহরিয়ার ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আলাদাভাবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা হলেন শাহরিয়ারের চাচাতো ভাই ও শাজাহানপুর উপজেলার পরানবাড়িয়ার পূর্বপাড়ার কাওছার (২২), ঝালোপাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান (২০) এবং রামপুর গ্রামের মোহাম্মদ সাহান (২০)।

তাঁদের মধ্যে আসামি সাহান বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম সুমাইয়া সিদ্দিকার আদালতে এবং আসামি কাওছার ও মাহমুদুল হাসান বেগম জিনিয়া জাহানের আদালতে জবানবন্দি দেন।

বগুড়ার আদালত পুলিশের পরিদর্শক সুব্রত কুমার ব্যানার্জি প্রথম আলোকে বলেন, বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দুই আদালতে তিন আসামি আলাদাভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে আজ বিকেলে বগুড়া পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম।

তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চাচাতো ভাই কাওছারকে একটি কাজের জন্য ৪০০ টাকা দেন শাহরিয়ার। কাওছার সেই কাজ না করলে টাকা ফেরত চান শাহরিয়ার। কিন্তু টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করে আসছিলেন কাওছার। পরে এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে কাওছারকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন শাহরিয়ার। এতে অপমানিত হয়ে কাওছার তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে শাহরিয়ারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী তাঁকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা করেন ওই তিনজন।

শাহরিয়ার ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলার পরানবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং শেরপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী প্রথম আলোকে বলেন, গত শনিবার বিকেলে এলাকার একটি মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন শাহরিয়ার। পরদিন রোববার সকালে তাঁর মা আরজি খাতুন শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে রামপুর গ্রামের ভুট্টাখেত থেকে শাহরিয়ারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আবদুল কাদের জিলানী আরও বলেন, এ ঘটনায় গত রোববার রাত ১১টার দিকে আরজি খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।