পুলিশ ও মেয়ে দুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দপ্তরি খোকন সিকদার পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সকালে প্রাইভেট পড়ান। শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের কক্ষের দরজা আটকে তিনি দুই ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা করেন। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে খোকন সিকদারকে বিদ্যালয়ের ওই কক্ষেই আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার এসে খোকন সিকদারকে লোকজনের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরি সম্পর্কে ভাই।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। এতে সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসী। মো. তৌফিক নামের একজন বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলাম। পুলিশ এসে বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত খোকনের ভাই কেন তাকে বাঁচিয়ে দিল। পুলিশের কাছে না দিয়ে সে অন্যায় করেছে, তারও বিচার হওয়া দরকার।’

স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার জামিল খান বলেন, সকালে খোকন দুই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় ধর্ষণচেষ্টা করেন। বিদ্যালয়ের মাঠে তখন ফুটবল খেলছিলেন কয়েকজন যুবক। তাঁরা ও আশেপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এসে দেখতে পান, খোকন দরজা বন্ধ করে ধর্ষণচেষ্টা করছেন। এ সময় তাঁকে কক্ষের ভেতরেই আটকে রাখা হয়। তাঁর ভাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সিকদার এসে লোকজনের কাছ থেকে খোকনকে ছাড়িয়ে নেন। এর পর থেকে খোকন পলাতক।

তবে এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ে এসে এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখিনি। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। শুক্রবার ওর প্রাইভেট পড়ানো উচিত হয়নি।’

এ ঘটনায় ওই দুই ছাত্রীর পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছে জানিয়ে নলছিটি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল আলম বলেন, অভিযুক্ত দপ্তরি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ গিয়ে স্থানীয় লোকদের শান্ত করেছে। তাঁরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন