জাহাঙ্গীরনগরে ভেলাবাইচ প্রতিযোগিতা, বিজয়ীরা পেল রাজহাঁস, মুরগি ও কবুতর
চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভেলাবাইচ প্রতিযোগিতা। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবন–সংলগ্ন রং পুকুরে এ আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
জাকসু সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দিতেই এমন আয়োজন করা হয়। আয়োজনটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) সোহেল আহমেদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকেরা।
আয়োজকেরা জানান, কলাগাছ কেটে, বাঁশের কঞ্চি ও দড়ি দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি ভেলা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ১১টি ছাত্রহলের ২২ জন শিক্ষার্থী।
২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় শহীদ সালাম-বরকত হল। দ্বিতীয় নবাব সলিমুল্লাহ হলের সময় লেগেছে ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ড এবং তৃতীয় হওয়া আ ফ ম কামালউদ্দিন হল ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করা দলটিকে একটি রাজহাঁস এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে একটি দেশি মুরগি ও এক জোড়া কবুতর পুরস্কার দেওয়া হয়।
ভেলাবাইচ উপভোগ করতে রং পুকুরের চারপাশে ভিড় করেন শত শত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী। এমন আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করতে পেরে খুবই আনন্দিত আমরা। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে, নইলে একসময় এগুলো হারিয়ে যেতে পারে।’
জাকসুকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রথম হওয়া দলটির শিক্ষার্থী আল মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ভেলাবাইচে আমাদের হল অংশগ্রহণ করে প্রথম হয়েছে। এটা খুব আনন্দ ও গর্বের।’
মুখ্য আয়োজক ও জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ বলেন, ‘সব কাজে ভিন্নতা রাখার চেষ্টা থাকে আমাদের। এ কারণে আজ এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। ভেলাগুলো জাকসুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে।’