গতকাল রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় নাঈম দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন
ছবি: প্রথম আলো

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মাটির ঘর ধসে পড়ে মো. নাঈম হোসেন (২৯) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার দিঘধা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাঈমের ছোট ভাই মো. নাদিম আহত হয়েছেন।

নিহত নাঈম উপজেলার দিঘধা গ্রামের কাছারি মোড় এলাকার মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। নাঈম পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর নাদিম মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিকুর তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলেসহ মাটির ঘরে থাকেন। গতকাল রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে রাত ১১টার দিকে নাঈম ও নাদিম এক কক্ষে ঘুমাতে যান। পাশের আরেক কক্ষে সিদ্দিকুর ও তাঁর স্ত্রী ঘুমাচ্ছিলেন। এর মধ্যে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় দেয়ালের নিচে নাঈম চাপা পড়েন এবং নাদিম গুরুতর আহত হন। পর স্থানীয় লোকজন এসে আহত অবস্থায় নাদিমকে উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে নাঈমকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় লোকজন নাদিমকে উদ্ধার করতে পারলেও মাটি সরিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নাঈমকে উদ্ধার করেন
ছবি: প্রথম আলো

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিরাজ বলেন, মাটির ঘরগুলো ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঘরের দেয়ালের নিচের অংশ ভিজে যায়; পাশাপাশি ইঁদুর ও উইপোকা দেয়ালের বিভিন্ন জায়গা ক্ষতি করে। এর মধ্যে হঠাৎ গতকাল রাতে ঘরটি ধসে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এসে নাদিমকে উদ্ধার করতে পারলেও মাটি সরিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করা যাচ্ছিল না।

কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. সাবেদ আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রাত ১২টা ১৫ মিনিটে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় নাদিম বড় একখণ্ড দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে ছিল। পরে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।’