গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে থেকে নবজাতকটি চুরি হয়ে যায়। ওই হাসপাতালে নবজাতক জন্মের পর তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় আজ বিকেল পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা থানায় কোনো মামলা করেননি নবজাতকের স্বজনেরা।

মামলা না হলেও ওই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করছেন সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুকান্ত দাশ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করার ও নবজাতক উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে। নবজাতক উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ওই নবজাতকের মামা মো. মোস্তফা জানান, তাঁর বোন রানিমা বেগম একজন দিনমজুর। তাঁর ভগ্নিপতিও একই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় গতকাল সকালে প্রসব বেদনা উঠলে তাঁর বোনকে ফকিরহাট থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দুপুরে জন্ম নেয় ছেলেশিশু।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ছাড়পত্র দেয়। এরপর গেটের সামনে এসে গাড়িভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই চালক গাড়ির চাবি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এর মধ্যে আরও কয়েকজন চালক তাঁর ওপর চড়াও হন। গাড়িচালকদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ওই নারী শিশুটির খালা সোনিয়া বেগমের কাছ থেকে কৌশলে নবজাতকটি নিয়ে পালিয়ে যান।

চুরি হওয়া ওই নবজাতকের মামা আরও বলেন, ২৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো নবজাতক উদ্ধার করা যায়নি, এটি বেশ আতঙ্কের। জন্মের পর মায়ের দুধ খাওয়ার সুযোগ পায়নি শিশুটি। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে তাঁর ভাগনে বাঁচবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।