হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের গুদামে আগুন, আতঙ্ক

হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলার শিশু ওয়ার্ডের গুদামঘরে আগুন লাগে। আজ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলার শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেলে ওই ওয়ার্ডের গুদামঘরে আগুন লাগে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশের আটতলা ভবনটিতে নিচের দুই তলায় বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলে। অন্যগুলোতে শিশু, হৃদরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডও এই ভবনে। আজ শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ভবনের ছয়তলার শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ ধোঁয়া ছড়াতে শুরু করে। শিশু ওয়ার্ডের একটি গুদামঘরে রোগীদের জন্য ম্যাট্রেস ও বিছানার জিনিসপত্র রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা ভবন থেকে দ্রুত নিচে নেমে যান।

অগ্নিকাণ্ডের পর রোগী ও স্বজনেরা ভবন থেকে নেমে এসেছেন। আজ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
ছবি: প্রথম আলো

মো. রহমত আলী নামের এক ব্যক্তি তাঁর দুই বছর বয়সী শিশুকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দেখি, চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। আগুনের নাম শুনেই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন মাস্ক ছাড়াই দৌড়ে নিচে নেমে আসি। সিঁড়িতে মানুষের চাপে আমার বাচ্চার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিল। নামতে গিয়ে নিজেও ব্যথা পেয়েছি।’

হাসনা বেগম তাঁর নাতনিকে নিয়ে হৃদরোগ বিভাগে ছিলেন। আতঙ্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধোঁয়ার কারণে ওপরে উঠতে পারছিলাম না, আবার নামতেও পারছিলাম না। কান্নাকাটি আর চিৎকার ছাড়া কিছু করার ছিল না। পরে কয়েকজন মিলে আমাদের নামিয়ে আনে।’

১৫ মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট। আজ শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘আগুন থেকে ধোঁয়ার সৃষ্টি হলে রোগীরা সবাই নেমে যান। আগুন ছড়াতে পারেনি। এতে কোনো হতাহতের খবর আমরা পাইনি। পরে জরুরি বিভাগে বলে দেওয়া হয়, ওই ভবনের রোগীদের অন্যান্য ওয়ার্ডে যেন পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমাদের মিনি স্টোররুমে আগুন লাগে। আপনারা জানেন, হাসপাতালে সব সময় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী থাকে। কেউ সিগারেটের আগুন ম্যাট্রেসে ফেলেছে কি না, বুঝতে পারছি না। এ ছাড়া আগুন লাগার অন্য কোনো কারণও দেখছি না। সিসিটিভি পর্যালোচনা ও তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, ‘বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে আমরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের ৯টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রোগীদের জন্য রাখা ম্যাট্রেসে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছি।’