সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল যুবকের লাশ, পাশে পড়ে ছিলেন ছুরিকাহত সাবেক স্ত্রী
গলায় শাড়ি বেঁধে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল যুবকের লাশ। পাশে পড়ে ছিলেন ছুরিকাঘাতে আহত তাঁর সাবেক স্ত্রী। পরে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। গাজীপুর নগরের বাইমাইল এলাকায় আজ সোমবার সকালে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক হলেন, ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কলাকোপা এলাকার শেখ রহমতের ছেলে রনি শেখ (৩৩)। ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর সাবেক স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার (২৭)। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী থানার গড়িয়া না এলাকার হাকিম মোল্লার মেয়ে। তাঁরা দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রায় এক বছর আগে বৃষ্টি আক্তার ও রনি শেখের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে বৃষ্টি আক্তার বাইমাইল পুকুরপাড় এলাকায় আলাদা একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তালাক হয়ে যাওয়ার পরও বৃষ্টি আক্তারের ভাড়া বাসায় রনি যাওয়া–আসা করতেন। আজ সকালে ওই বাসায় তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রনি শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে বৃষ্টি আক্তারকে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম করেন। এতে বৃষ্টি আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরই মধ্যেই রনি শেখ সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
বাইমাইল এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, এটি ছিল তাঁদের দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। এরপরও তাঁদের তালাক হয়ে গেলেও রনি তাঁর সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।
কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে রনির প্রায় এক বছর আগে তালাক হয়ে গেলেও তাঁদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল এবং প্রায়ই রনি সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ঝগড়া-বিবাদের জের ধরে সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন রনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্ত্রী বৃষ্টির মৃত্যু হয়েছে ভেবে তিনিও ভয়ে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।