তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১০৭টি নৌযানের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কিছু নৌযানের মালিকের হাতে নিবন্ধনপত্র তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির। পর্যায়ক্রমে অন্য নৌযানগুলো দেখে নিবন্ধন দেওয়া হবে। তবে আজ বুধবার থেকে শুধু নিবন্ধিত নৌযান হাওরে পর্যটকদের নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো নৌযান হাওরে পর্যটকদের নিয়ে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিবন্ধন পাওয়া নৌযানগুলোকে হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটক ও এলাকাবাসীর স্বার্থে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। এ সব শর্তের উল্লেখযোগ্য হলো নিবন্ধনপত্র সার্বক্ষণিক নৌযানে রাখতে হবে, এটি হস্তান্তর যোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ের পর আবার উপজেলা প্রশাসন থেকে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। নদী, হাওর, বিল, পুকুরের পানি ও উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের ময়লা, আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলা যাবে না। প্রতিটি নৌযানে সংরক্ষিত ঢাকনাযুক্ত বড় ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে এবং পরে নিজ দায়িত্বে এসব ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।

শর্তের মধ্যে আরও আছে—নৌযানে উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী কোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, লাইফ জ্যাকেটসহ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া নৌযানে ভ্রমণ করা যাবে না, বিরূপ আবহাওয়ায় ভ্রমণ বন্ধ রাখতে হবে, নৌযানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না, নৌযানে পর্যটকদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, ভ্রমণের সময় সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায় এমন কোনো কাজ করা যাবে না, পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, পর্যটকদের মালামাল রক্ষা ও দুষ্কৃতকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তাহিরপুরের ইউএনও মো. রায়হান কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হাওরের প্রকৃতি-পরিবেশ, পর্যটক, নৌযানের মালিক ও এলাকাবাসীর স্বার্থে এসব ব্যবস্থা নিচ্ছি। যাঁরাই আবেদন করেছেন, তাঁদের নৌযানগুলো দেখে আমাদের নির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন দেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন