ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে কড়া নজরদারি, বনকর্মীদের ছুটি বাতিল

নদী ও গাছপালায় ঘেরা সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য। ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদীসংলগ্ন এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। তবে ঈদ সামনে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বনজ সম্পদ রক্ষা ও চোরা শিকারি দমনে সুন্দরবনের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শুরু হওয়া গোলপাতা আহরণ মৌসুম ও ঈদের সময় হরিণ শিকারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ভেতরে দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে দুটি রেঞ্জ রয়েছে—খুলনা ও সাতক্ষীরা। এই দুই রেঞ্জের আওতায় রয়েছে ৯টি ফরেস্ট স্টেশন ও ৩০টি টহল ফাঁড়ি।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ঈদের সময় অনেক বনরক্ষী বাড়িতে চলে যাওয়ায় সুন্দরবনের কিছু এলাকা তুলনামূলক অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এ সুযোগে অপরাধীরা বনে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এবার ঈদের মধ্যে ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন বিভাগের কেউ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এ সময় সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে গোলপাতা আহরণ চলায় বনজ সম্পদ রক্ষা, হরিণসহ বন্য প্রাণী শিকার প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

সুন্দরবন–সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বন বিভাগের টহল কিছুটা ঢিলেঢালা হলেই গাছচোর, বিষ ছিটিয়ে মাছ ধরা চক্র এবং হরিণশিকারিরা বনে ঢুকে পড়ে। সংঘবদ্ধ শিকারিরা হরিণের চলাচলের পথে বিশেষ ধরনের ফাঁদ পেতে রাখে। হরিণ সেই ফাঁদে আটকে পড়লে বনের ভেতরেই জবাই করে মাংস কেটে লোকালয়ে এনে বিক্রি করা হয়। ঈদের সময় এলাকায় হরিণের মাংসের চাহিদাও বেড়ে যায়।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ছুটির সময় দুর্বৃত্তরা প্রায়ই বনের সম্পদ লুটপাটের সুযোগ নেয়। তাই ঈদের সময় টহল জোরদার ও ছুটি বাতিল করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে অপরাধ দমনে শুধু টহলই যথেষ্ট নয়, বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানও তৈরি করা জরুরি।