ফাঁস হওয়া ৪৪ সেকেন্ডের অডিওতে ভুক্তভোগীর পরিচয় দিয়ে একজন পুরুষ তদন্ত প্রতিবেদন কবে দেবেন, তা জানতে চান। অন্য প্রান্তে নারী কণ্ঠে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘যত তাড়াতাড়ি আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাবেন।’ এ সময় পুরুষ কণ্ঠে আরও বলা হয়, ‘যে ১০ হাজার দিয়েছি, তা দিয়েই কাজটা করে দেন।’ তখন নারী কণ্ঠে বলা হয়, ‘দেখি অফিসে গিয়ে আগে কথা বলি...।’

তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায় ঘুষের টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে প্রথম আলোর কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী গৃহবধূর বরাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রফিক হাসনাইন জানান, পাঁচ বছর আগে রংপুর সদর উপজেলার বাঁশকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও মহানগর পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মোটরসাইকেল কিনে দেওয়াসহ কিছু টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী ইসমাইল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। এ অবস্থায়ও ওই গৃহবধূকে মারধর করেন ইসমাইল। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে নগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভপাত হয়। চিকিৎসা চলাকালে স্বামী ইসমাইল ওই গৃহবধূর কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় সুস্থ হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এ স্বামী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায়কে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাস তাঁর কাছে ধরনা দিয়েও প্রতিবেদন দিচ্ছিলেন না শিখা রানী। তিনি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ঘুষ দাবি করলে তাঁর দরিদ্র বাবা ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁকে দেন। কিন্তু গত বুধবার তাঁর বিপক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দেন শিখা রানী। এদিন বিকেলে তাঁর বাবা ও ভাই ঘুষের টাকা ফেরত নিতে উপজেলা পরিষদে গেলে তাঁদের লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেন শিখা রানী ও তাঁর কার্যালয়ের কর্মচারীরা। এ ছাড়া চিকিৎসকের মতামত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য না নিয়েই শিখা রানী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন