রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, পৃথক মামলায় দুজন গ্রেপ্তার

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জে সনাতন সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতেছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননামূলক ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি এবং হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে পৃথক দুই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননামূলক একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে গতকাল রাতে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির বাড়িতে যায় একদল লোক। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আসবাবসহ বিভিন্ন মাল তছনছ করে। এ সময় দুটি টেলিভিশন ভাঙচুরের পাশাপাশি রান্নাঘর ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি করা হয়।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যায় একদল লোক এসে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি উপজেলার গুজিপাড়া এলাকায়।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জে তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার রাতে
ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উপজেলার মকিমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম দফাদার বাদী হয়ে রাতে থানায় আরেকটি মামলা করেন। মামলায় এক যুবককে আসামি করা হয়। মামলার পর গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আরও পড়ুন

ঘটনার পর গতকাল রাতে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুটি ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।