কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ইসমাইল হোসেন ওরফে জনিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনেছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ইসমাইল হোসেন ওরফে জনি (২৮) নামের ওই আসামি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে এই জবানবন্দি দেন।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাঁরা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

রিমান্ডে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইসমাইলকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে বিচারক আবিদা সুলতানা মলি শুনানি শেষে তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুলেট বৈরাগী
ছবি: সংগৃহীত

ইসমাইলের বাড়ি কুমিল্লা শহরতলির ধর্মপুর এলাকায়। আজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২৭ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চার আসামি। তাঁরা হলেন ধর্মপুর এলাকার মো. সোহাগ (৩৪), মো. সুজন (৩২), আমড়াতলী এলাকার এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪) ও আড়াইওড়া এলাকার রাহাত হোসেন ওরফে জুয়েল (২৭)। গত রোববার রাতে কুমিল্লা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টিটু কুমার নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা সেগুলো যাচাই–বাছাই করে দেখছেন।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কুমিল্লা শহরে প্রবেশের যে কয়টি পথ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে নিরিবিলি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকা। এই এলাকা দিয়ে রাতে মানুষের চলাচল কম থাকে। এ জন্য চালক ও যাত্রীর বেশে আগেই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফাঁদ পেতে বসে ছিলেন ছিনতাইকারীরা। বুলেট বৈরাগীকে অটোরিকশায় তুলেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে চলন্ত অবস্থায় বুলেট বৈরাগীকে মহাসড়কে ফেলে দেওয়া হয়।

উপপরিদর্শক টিটু কুমার নাথ বুলেট বৈরাগীর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়ায় বুলেট বৈরাগী মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। ঘাড়সহ তাঁর মাথার পেছনের অংশ থেঁতলে যায়। তাঁর কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম আছে। এ ছাড়া চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ায় তাঁর ডান হাতের একটি হাড়ও ভেঙে যায়। তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়ার পর বুলেট বৈরাগী গড়িয়ে মহাসড়কের পাশে চলে যান। মহাসড়কের ওপর পড়ে থাকলে তিনি গাড়িচাপার শিকার হতে পারতেন, তখন হয়তো এই হত্যার রহস্য আর বের করা সম্ভব হতো না। তখন এটিকে দুর্ঘটনা মনে হতো।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম থেকে ২৪ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী। কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর আর বাসায় ফেরা হয়নি। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে কোটবাড়ী আইরিশ হিল হোটেল–সংলগ্ন মহাসড়কের পাশ থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।