ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকায় আফাজ উদ্দিনের বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালীন আফাজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের পাশে বসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আফাজের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন আয়োজন করে ছাত্রছাত্রীরা। এ সময় অভিযুক্ত আফাজের লোকজন এসে মানববন্ধনের ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তাঁরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষেও হামলা চালালে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে সেখানে এসে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করেন। এতে ইমরান হোসেনসহ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এসে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

ইউপি সদস্য ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখনই আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনাটি নিন্দাজনক। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে এই ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীমান চন্দ্র রায় বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমার রুমে বসে ইউপি সদস্য ইমরান বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় আফাজ উদ্দিনের ভাগনে বাকি বিল্লাহ ইমরানের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা আমার রুমের চেয়ার ভাঙচুর করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আফাজ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে আদাবাড়িয়া পোস্ট অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট আবু সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহম্মদ বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন