ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন দুই বন্ধু, পথে মৃত্যু

দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে গেল মোটরসাইকেল। আজ সকাল সাড়ে নয়টায় কক্সবাজারের চকরিয়ার চিরিংগা হাইওয়ে থানার চত্বর থেকে তোলাছবি: প্রথম আলো

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া চারটার দিকে উপজেলার বানিয়ারছড়া এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা হয়।

নিহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী হলেন ঢাকার উত্তরখান থানার আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং একই এলাকার অলিউল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম (২৯)। তাঁরা দুজন গতকাল বুধবার রাতে মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পরে চকরিয়া এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস পেছন থেকে তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, লাল সবুজ পরিবহন নামে বাসটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল। বাসটি চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়া এলাকায় পৌঁছালে একই লেনে থাকা কক্সবাজারমুখী মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হন। একই ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চট্টগ্রামমুখী এক মোটরসাইকেলচালক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সকালে ঢাকা থেকে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁরা পৌঁছালে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

নিহত শরিফুল ও রাইসুল ছাড়াও মোহাম্মদ হাফিজ ও রুকন উদ্দিন নামের দুজন পৃথক মোটরসাইকেলে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। রুকন উদ্দিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর তাঁরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন। কক্সবাজার সৈকত ঘুরে এক দিন পর ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পথেই তাঁদের দুই সঙ্গীর মৃত্যু হলো।

আক্ষেপ করে রুকন উদ্দিন বলেন, নিহত দুজনই দক্ষ চালক। নতুন মোটরসাইকেল, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও বডি সেফটি—সবই ছিল। এরপরও অন্যের দোষে আজ সড়কে তাঁদের প্রাণ দিতে হলো। ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লাল সবুজ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালক ও তাঁর সহকারী দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে তাঁদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’