শিবিরের কমিটিতেই প্রকাশ্যে শিবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা রাকসুর ভিপি প্রার্থী

মেহেদী সজীবছবি : প্রথম আলো

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসু নির্বাচনের আলোচিত ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আনলেন। সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের প্যাডে প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক পদে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন তিনি। এর পরপরই তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক তিন সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী দেয় প্যানেলটি। প্যানেলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী সজীব, জিএস পদে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার এবং এজিএস পদে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিল বিন তালেবের নাম ঘোষণা করা হয়।

ওই সময় প্যানেলে ঘোষিত কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা আছে—এমন অভিযোগ ওঠে। প্যানেলটি ছাত্রশিবিরের ‘বি টিম’বা ‘ডামি প্যানেল ’ হিসেবে গঠন করা হয়েছে বলেও ক্যাম্পাসে গুঞ্জন ওঠে। তবে এ সময় ভিপি ও জিএস প্রার্থী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরে এজিএস প্রার্থী আকিল বিন তালেব, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক ফাহির আমিন এবং সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী এম শামিম প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে ভোটে জিএস পদে নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। এদিকে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালেও নির্বাচনী প্রচারে নীরব ছিলেন ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব। আলোচিত ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে মেহেদী অন্যতম হলেও তিনি ভোটের মাঠে সক্রিয় হননি। অভিযোগ ওঠে, শিবির-সমর্থিত ভিপি প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই তিনি সক্রিয় হননি। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেন সজীব। তিনি দাবি করেছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রচারে অংশ নিতে পারেননি। ভিপি পদের নির্বাচনে তিনি ৩২৩ ভোট পান।

ফেসবুকে সমালোচনা
এদিকে মেহেদী সজীবের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নতুন পদের জন্য শুভকামনা। পাশাপাশি সকলের ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করার জন্য ধন্যবাদ।’

সাইফুর রহমান নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে বেঈমানী করে আত্মপ্রকাশ করেছে ছোট ভাই মেহেদী সজীব।...আরও কিছু ছোট ভাই আছে। একে একে সবাই সামনে আসবে।’

এত দিন পর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে মেহেদী সজীব প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় থেকে তিনি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তিনি আন্দোলন সমন্বয় করেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য তখন পরিচয় প্রকাশ করেননি। পরে অনূকূল পরিবেশ না থাকায়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ–সংক্রান্ত প্রশ্নের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাই প্রকাশ্যে এলেন।